রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

----

চোখে অনেক দিনের সন্ধ্যে নেমে আসে ; ভেবেছি দেখা হলে বলব , " একটি সন্ধ্যের আকাশ খুঁজে দিও । " অথচ সে আকাশের রং আমার এখনও জানা হয় নি , যে কোন রঙের জন্যে হলেও সে কথা এখনও বলা হয় নি ।
কেবল শব্দে বদলে দিলেই কথার মানে তো কিছু বদলায় নি !
তারপর বহু সন্ধ্যা অবলীলায় এসে আবার যাবে চলে । ট্রিলিয়ন প্রোব্যাবিলিটির একটি অংকের ভুলে হয়ত তাকে জানতে পারা গেল না ।
ফেরার রাস্তায় ভিজে আলোতে সে হয়ত অন্য বাড়ি ফিরবে ।
এরপর এমনি বৃষ্টিজোড়া বিকেল হলে আমি হয়ত আবার সিঁড়িঘরে ধূসর মেঘে দৃষ্টি ভাসিয়ে দিলাম ---- আশায় পায়ের ধ্বনির দিকে কান পেতে থাকি চুপে যদি সে কখনও পিছু এসে দাঁড়ায় ।

সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৫

বিক্ষিপ্ত - ১


কবিতা খুঁজে নিলে তোমায়
এবং হারালে বারেবার
তারপর উঠোনে কথাগাছ বুনে দিলে ,
এরপর থেকে শেষ রাতে আর কোন
পাখি নেমে এলো না ।

কবিতার ফুলে ফুলে ভারী হয়ে উঠেছে কথাগাছ ।
এবার কবিতার সাজিতে তুলে না দিলে
আবার অপেক্ষার পরের বছর ।

এতদিনে অভ্যস্ত হয়ে যাবার কথা ছিল ,
যদি কবিতা না দিলে প্রাণে ।

Labyrinths of mutual Nothingness ( পারস্পরিক অনস্তিত্বের গোলকধাঁধা )


আছে , অথচ কেউই নেই ।
তারপর ... ?


অতঃপর তারা ঠিক করল ছায়াসঙ্গী হবে ,
রোজ মাসে একটি করে তারা জমাবে আর,
ঝুলিয়ে দিবে দুই মানুষের মাঝে চুপ করে থাকা
অসীম আকাশে ।


প্রখর রৌদ্রের জাল বুনে তারা একটি দুটি করে বেঁধে দিলে
তারাগুলি । যেন পুড়ে যাওয়া রৌদ্রের সাথে সাথে নিভে যায়
তারাদের বিগত আবেগ ।

ক্ষণে ক্ষণে তারাদের বুকে জ্বলে উঠতে লাগল রাগ 
আর ছেলেমানুষি কথার ভিতরের ব্যাকস্পেসে
ভারী হয়ে ওঠা হলুদ হলুদ কষ্টে ।
কেবল রৌদ্রের রঙের সাথে মিলে গেল বলে
ওরা কেউ দেখেও দেখলে না ।


কথা রইল , একদিন বড় একঘেয়ে লাগলে তারা
ভাগাভাগি করে নিবে তারাগুলো আধেক করে ।
"
তুই বরং ওই হলুদ তারা টা রেখে দে,
তোর দুঃখু করা স্বভাবের সঙ্গে মানিয়ে যাবে । "
মনে মনে , " তাহলে ঐ মাথামোডা তারাটাকেও রেখে দিতে দোষ কি ছিল !"
অথচ তারা কেউই কিছুই বললে না ।
দুজনেই গেলে ফিরে ?

তারপর ...?

একদিন  অনন্ত আকাশের ফাঁক পেয়ে
বাঁশি বেজে উঠত ,
ঐ না-থাকবার গোলকধাঁধায় ।


এরপরের গল্প টুকুন তারা তাদের মতন করে লিখে নিক ।




মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১৫

জানি দেখা হবে

" প্রহর শেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্র মাস
তোমার চোখেই দেখেছিলাম আমার ? "

কখনও তাকাইনি ঐ চোখে,
লুকিয়েছিস তুইও ঐ চশমার ফ্রেমে ।

তবু একবার ঝিরিঝিরি করে হলুদ রাত নেমেছিল বুকে
মৃদু পাগলামির সুখে আর অন্তঃবর্তী অনুপম শূন্যতায় ।


সুর ছেনে এনেছিলি তুই বহু পথ হাঁটি
আমিও নিয়েছিলাম রোদ  মুঠি মুঠি করি ;
সুরে ভাবি কেবল আর অসুরেতে জড়াই ,
কাটাকাটি করে কেবল নিজেদের ভাঙ্গাই ।


হলুদ কষ্টে - সুখে সে রাত জেগে রয় মনে,
আরেকটিবার আসতে কি পারে ফিরে ?
দেখা হবে কি হবে না ...
আবার এ পৃথিবীর পথে !

ওহে হলুদ জুড়ি,
তখন আবারও কি উড়াবি
তোর ঐ হলদিয়া ঘুড়ি  !?

শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৩

ইচ্ছা-ঘুম

বিনিমিত শেষ সুর দুটো পটে তোলা থাক,
একের ইচ্ছায়, দুইয়ের ঘুমে গড়া --
ইচ্ছাঘুম ।

দূরবীক্ষণের দুটো লেন্সে দুজনে উঠে বসি ,
একে অবাস্তব  হয়ে দুইয়ে বাস্তব বিম্ব গড়ে
শূন্যে ।

নীল পাড় খসে গেছে,
খেয়ালের নীল খামে খামখেয়ালি
কথা গোঁজা আছে । এইসব ভার্চুয়াল
তরঙ্গ গাছ কেটে ফেললে
বাতাস বয়ে নিয়ে যাক একটাই সুর,

দেখা হবে ইচ্ছা-ঘুমে , এখনও যে দেখা
হওয়া বাকি আছে ইচ্ছে আর ঘুমের ।  

শুক্রবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৩

একাদশী স্বপ্ন

ক্বদাচিত দুই-একটা রৌদ্রের দিন নজরে আসে ।


রাতে ঘুম হলে স্বপ্নের ট্রেইলার নামে , যেখানে
উত্তাল পদ্মার পাড়ে বসলে বৃষ্টি নামে ; সাদা কাগজ
বাঁচাতে মাথার উপরে ধরা ভাঙ্গা ছাতা দিয়ে যখন
চুল ভিজে তখন আর ভাঙ্গা ছাতা নিয়ে মান-অভিমান
হয় না ।     


বৃষ্টিতে প্রতিধ্বনি ভিজে যায় , তাই
স্বপ্ন ছেড়ে ভিজে আসি ।
বাস্তব কে দুইদিকে টানতে টানতে
অট্টহাসি আসে ,
অনেকগুলো গোল গোল মিষ্টি ওষুধ ,
কোন এক নারীকে ( প্রচলিত মা কে )
কপালে জলের ছোঁয়া দিতে পেয়ে
আবার চোখ বুজব ।


এরপর বিকেল চারটায় আবার সাদা
দেয়ালে রৌদ্রকে পিছলে যেতে দেখব ।
সেবার যেন কেউ এক কাপ চা হাতে শুধোন,
"তোমার তো চায়ে বমি হয় ,
আমার সাথে খেয়ে দেখবে এক কাপ ? "

বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৩

সফেদ খাম ?


তার নিজের হাতে নীল রং করা , নীলাকাশ বা
নীল সমুদ্দরের নীল না ; নিজের প্রথম রংবাক্সের
সেই খয়ে আসা এবড়োথেবড়ো রংপেন্সিলের নীলে ,
দু-হাত নীলে রাঙিয়ে , বাবার ড্রয়ারে পাওয়া সফেদ
খামটাকে মাখিয়ে গড়া তার প্রথম ও শেষ নীল খাম ।
কয়েক টাকায় কেনা যেত আনকোরা নতুন খাম ,
তবে কিনা তা নীল করে রাখা যেত না , নীলাকাশ
মেঘলা হলে , বৃষ্টি নামলে ,নীল সমুদ্রে ঝড় উঠলে
তাকে যে আর চিরন্তন নীল দেওয়া যেত না ,
উত্তাপে নীল , আর্দ্রতায় নীল, শুষ্কতায় নীল , ঘামে নীল ,
হিমে নীল , বিষে নীল , সুখেও নীল----
যেত দেওয়া ?

তাই আটপৌরে নীল হাতে গড়ে দিল নীল রং
একখানা সফেদ খামে ।

নীল খামের দুটো এক ; তার প্রেরক --- নীলরঙা হাত তার,
আর একটি ঠিকানা ...
মানুষের কিংবা ঘরের । সেই একটি মানুষ কেবলি তার ঘর পাল্টায় ,
বা সেই একটি ঘরে সেই মানুষটি আর থাকে না ।
তাই নীল খাম আর ঠিকানায় পৌছে না ;
নীলরং হাতে নিয়ে মনে তার প্রশ্ন জেগেছিল ,
ঠিকানা খুঁজে পেতে পেতে তার নীলখাম সফেদ হবে না তো ?

না,
সেই নীল হাতে গড়া নীল খাম সফেদ হবার নয় ।